কলকাতা, সংবাদ একলব্য: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। সংশোধনাগারের ভেতর থেকে যাতে কোনোভাবেই অপরাধীরা বাইরের ভোটপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে, তার জন্য এবার রাজ্যের সমস্ত সংশোধনাগারগুলিকে ‘স্পর্শকাতর অঞ্চল’ (Sensitive Zone) হিসেবে ঘোষণা করল কমিশন। রাজ্য প্রশাসনকে এই বিষয়ে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশিকায় কী কী বলা হয়েছে?
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর থেকে সংশোধনাগারগুলির জন্য যে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, তার মূল বিষয়গুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
- ঘন ঘন ‘সারপ্রাইজ় চেকিং’: সংশোধনাগারের প্রতিটি ওয়ার্ড ও ব্যারাকে নিয়মিত এবং ঘন ঘন তল্লাশি চালাতে হবে। সংশোধনাগারের প্রতিটি অংশে আচমকা হানা দিয়ে বা ‘সারপ্রাইজ় চেকিং’ করে দেখতে হবে সেখানে কোনো বেআইনি কার্যকলাপ চলছে কি না।
- বাজেয়াপ্ত করতে হবে নিষিদ্ধ সামগ্রী: তল্লাশি চালিয়ে সংশোধনাগারের ভেতর থেকে বেআইনি মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, চার্জার, অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস, নগদ টাকা, মদ এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার হলে তা সঙ্গে সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
- ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে বিশেষ সতর্কতা: ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে এবং ভোটগ্রহণের দিন সংশোধনাগারের ভেতরের এই তল্লাশি অভিযান আরও কঠোর করতে হবে।
- প্যারোলে মুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা: ভোটের সময় কোনো বন্দিকে প্যারোলে (Parole) মুক্তি বা অস্থায়ী ছুটি দেওয়া যাবে না। একান্তই যদি কোনো জরুরি কারণে ছুটি দিতে হয়, তবে তার জন্য জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (District Election Officer) লিখিত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
- ১০০ শতাংশ সচল জ্যামার: সংশোধনাগারের ভেতরে থাকা জ্যামারগুলি যাতে ১০০ শতাংশ কাজ করে, তা সুনিশ্চিত করতে হবে। প্রতিদিন সেই জ্যামারগুলি পরীক্ষা করতে হবে। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, সংশোধনাগারের ভেতরে কোনোভাবেই যেন মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকে।
সপ্তাহে দু’বার রিপোর্ট তলব
কমিশনের এই কড়া নির্দেশিকাগুলি ঠিকমতো পালন করা হচ্ছে কি না, তা জানতে রাজ্য প্রশাসনের কাছে সপ্তাহে দু’বার রিপোর্ট তলব করেছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। এই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে:
- কতগুলি ‘সারপ্রাইজ় চেকিং’ করা হয়েছে।
- জ্যামারগুলি কতবার পরীক্ষা করা হয়েছে।
- তল্লাশিতে কী কী বেআইনি জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
- অপরাধীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, সংশোধনাগারের ভেতরে বসে অনেক সময় দাগি আসামিরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাইরে তাদের দলবলকে নির্দেশ দেয়, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় বাধা। তাই রাজ্যের ভোটপ্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত রাখতেই সংশোধনাগারগুলিকে নিয়ে এই নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন এবং রাজ্যের ভোট সংক্রান্ত সমস্ত ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ