সংবাদ একলব্য: মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এবার এক চূড়ান্ত এবং ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছতে চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে আসতে এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার চরম সময়সীমা বা আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শর্ত মানা না হলে ইরানের ওপর "নরক নেমে আসবে" (All hell will rain down) এবং ইরানের অবশিষ্ট যা কিছু আছে তা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের জেরে একটি প্রাচীন সভ্যতা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি
সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ (Truth Social) একটি পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেখেন, "মনে রাখবেন আমি ইরানকে চুক্তি করার এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম। সময় শেষ হয়ে আসছে— আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি, তারপরই ওদের ওপর নরক নেমে আসবে।" এর আগে কূটনৈতিক আলোচনার স্বার্থে তিনি ইরানের এনার্জি প্ল্যান্ট বা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলার সিদ্ধান্ত ১০ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছিলেন। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হতে চলায় এবার সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত ও পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা
মার্কিন সামরিক কর্তারা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তারা এই যুদ্ধে ইরানের পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেশটিকে কার্যত "প্রস্তর যুগে" (Stone Age) পাঠিয়ে দিতে পারেন। ট্রাম্প সম্প্রতি তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, আমেরিকার শক্তিশালী সেনাবাহিনী এখনও ইরানে আসল ধ্বংসলীলা শুরুই করেনি। তাঁর কথায়, আগামী দিনে ইরানের বড় বড় সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তেল শোধনাগারগুলোকে সরাসরি নিশানা করা হবে।
এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (Bushehr Nuclear Power Plant) কাছে একটি মিসাইল বা প্রোজেক্টাইল আছড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে, যাতে এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে এবং পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) ডিরেক্টর জেনারেল রাফায়েল গ্রোসি এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ইরানের পাল্টা ড্রোন হামলা ও বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালীতে ইসরায়েল-সম্পর্কিত একটি বাণিজ্যিক জাহাজে (MSC Ishika) ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আমেরিকা ও ইসরায়েলের এই যৌথ সামরিক অভিযান এবং ইরানের পাল্টা প্রতিরোধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্য তথা গোটা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ইরান যদি ট্রাম্পের শর্তে রাজি না হয়, তবে এই সংঘাত এক ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছবে, যার ফল ভুগতে হতে পারে গোটা বিশ্বকে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির লেটেস্ট আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ