কলকাতা, সংবাদ একলব্য: হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে পালিত হয় পবিত্র 'অক্ষয় তৃতীয়া'। পুরাণ মতে, এই দিনটি অত্যন্ত শুভ। যেকোনো নতুন কাজের সূচনা, হালখাতা, গৃহপ্রবেশ বা বিনিয়োগের জন্য এই দিনটিকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হয়। আর যুগ যুগ ধরে বাঙালিদের মধ্যে একটি রীতি বা 'হুজুগ' রয়েছে— অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা কেনা। মনে করা হয়, এই দিনে সোনা কিনলে গৃহে মা লক্ষ্মীর বাস হয় এবং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি অক্ষয় থাকে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি বর্তমানে অনেকটাই ভিন্ন। বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে সোনার দাম এখন কার্যত মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে। এই আকাশছোঁয়া দামের কারণে ইচ্ছে থাকলেও অনেকের পক্ষেই সোনা কেনা সম্ভব হচ্ছে বিদ্যা। তাহলে উপায়? সোনা কিনতে না পারলে কি পুণ্যলাভ হবে না?
জ্যোতিষশাস্ত্র এবং বাস্তু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা কেনার প্রথা থাকলেও, শাস্ত্র মতে এমন বেশ কিছু সস্তা এবং সহজলভ্য বিকল্প রয়েছে, যা এই পবিত্র দিনে কিনে ঘরে আনলে সোনার সমানই শুভ ফল লাভ করা যায়।
সোনা কেনার ৬টি শুভ বিকল্প
- রুপো (Silver): সোনার দাম সাধ্যের বাইরে হলে সবচেয়ে ভালো বিকল্প হলো রুপো। শাস্ত্রে রুপোকেও অত্যন্ত পবিত্র ধাতু হিসেবে মানা হয়। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন একটি ছোট রুপোর কয়েন বা গয়না কিনলেও মা লক্ষ্মীর কৃপা লাভ করা সম্ভব। এটি চন্দ্রের প্রতীক, যা মানসিক শান্তি বৃদ্ধি করে।
- যব (Barley): অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা বা রুপো—কোনোটিই কেনার সামর্থ্য না থাকলে মুদি দোকান থেকে মাত্র কয়েক টাকার 'যব' কিনে আনতে পারেন। হিন্দু ধর্মে যবকে অত্যন্ত পবিত্র শস্য এবং ভগবান বিষ্ণুর প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। এই দিনে যব কিনে তা লাল কাপড়ে বেঁধে টাকা রাখার জায়গায় বা সিন্দুকে রাখলে আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটে বলে বিশ্বাস।
- কড়ি (Cowrie Shells): মা লক্ষ্মীর অত্যন্ত প্রিয় বস্তু হলো কড়ি। সমুদ্র মন্থনের সময় মা লক্ষ্মীর সঙ্গেই কড়ির উৎপত্তি হয়েছিল বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন ৫টি বা ১১টি হলুদ কড়ি কিনে পুজো করে ক্যাশবাক্সে বা আলমারিতে রাখলে আর্থিক সংকট দূর হয়।
- মাটির পাত্র বা কলসি (Earthen Pot): বৈশাখের এই কাঠফাটা গরমে মাটির পাত্র বা কলসি কিনে ঘরে আনা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এই দিন একটি নতুন মাটির কলসিতে জল ভরে তাতে সামান্য কর্পূর বা সুগন্ধি মিশিয়ে দান করলে বা ঘরে রাখলে সংসারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে।
- শ্রীফল বা নারকেল (Sriphal): নারকেলকে হিন্দু শাস্ত্রে 'শ্রীফল' বলা হয়, যা মা লক্ষ্মীর আরেক রূপ। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন একটি নারকেল (বিশেষত একাক্ষী নারকেল) কিনে পুজো করা অত্যন্ত শুভ। এটি গৃহের নেতিবাচক শক্তি দূর করে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার করে।
- ডিজিটাল সোনা (Digital Gold): শাস্ত্রীয় উপাদানের বাইরে বর্তমান যুগের একটি দারুণ বিকল্প হলো ডিজিটাল গোল্ড। সোনার গয়না বানাতে গেলে মেকিং চার্জ বা জিএসটি-র ধাক্কা থাকে। কিন্তু ডিজিটাল মাধ্যমে (যেমন- বিভিন্ন ইউপিআই অ্যাপ বা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে) মাত্র ১০ টাকা বা ১০০ টাকা বিনিয়োগ করেও আপনি অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা কেনার মানসিক শান্তি লাভ করতে পারেন।
সর্বোপরি মনে রাখা প্রয়োজন, উৎসবের মূল বিষয় হলো ভক্তি ও শুদ্ধ মন। সামর্থ্য অনুযায়ী যেটুকু কেনা সম্ভব, তাতেই ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন। ধারদেনা করে বা পকেটে চাপ ফেলে মহার্ঘ্য সোনা কেনার চেয়ে, সাধ্যের মধ্যে এই বিকল্পগুলি কিনেও অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্য অর্জন করা যায়।
জীবনযাত্রা, ধর্ম এবং জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্ত লেটেস্ট আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ