আলু চাষিদের মুখে হাসি ফোটাতে বড় পদক্ষেপ নবান্নের! সহায়ক মূল্য বেড়ে ৯৫০ টাকা, ভিনরাজ্যে বিক্রিতেও সবুজ সংকেত
নিজস্ব প্রতিবেদন, সংবাদ একলব্য: রাজ্যের আলু চাষিদের জন্য চরম স্বস্তির খবর। বাজারে আলুর দাম তলানিতে ঠেকার কারণে চাষিদের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করতে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক আলু চাষিদের আর্থিক চরম ক্ষতি থেকে বাঁচাতে আলুর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) বাড়িয়ে কুইন্টাল প্রতি ৯৫০ টাকা নির্ধারণ করল নবান্ন। একইসঙ্গে ভিনরাজ্যে আলু বিক্রির ক্ষেত্রেও বড়সড় ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী রয়েছে 'আলু সংগ্রহ প্রকল্প ২০২৬'-এ?
রাজ্যের কৃষি বিপণন দপ্তরের সংশোধিত 'পটাটো প্রোকিওরমেন্ট স্কিম' বা আলু সংগ্রহ প্রকল্পের অধীনে কৃষকদের সুরক্ষায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
- বর্ধিত সহায়ক মূল্য ও ক্রয়ের সীমা: চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি কুইন্টাল পিছু ৯৫০ টাকা দরে উন্নত মানের 'জ্যোতি' জাতের আলু কিনবে সরকার। নিয়ম অনুযায়ী, একজন চাষি সর্বাধিক ৩৫ কুইন্টাল (অর্থাৎ ৫০ কেজির ৭০ বস্তা) আলু এই সরকারি মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন।
- হিমঘরে সংরক্ষণে অগ্রাধিকার: রাজ্যের সমবায় দপ্তরের অধীনে থাকা হিমঘরগুলি সহ প্রায় সমস্ত বেসরকারি হিমঘর এই সরকারি প্রকল্পের আওতায় অংশ নিচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজ্যের সমস্ত হিমঘরে ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষিত রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সংরক্ষণের সুবিধা পেতে চাষিদের আগামী ২৫ মার্চ, ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন করতে হবে।
- সময়সীমা বৃদ্ধি: কৃষকদের অভাবী বিক্রি (Distress Sale) রুখতে রাজ্য সরকার এই আলু সংগ্রহ প্রকল্পের সময়সীমা আগামী ১০ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
- হিমঘর মালিকদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস: এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে অংশ নিয়ে কোনো হিমঘর বা সংস্থা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে, রাজ্য সরকার তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেবে বলেও সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট আশ্বস্ত করা হয়েছে।
আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে (Interstate Trade) ছাড়
বেশ কিছুদিন ধরেই ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারি কড়াকড়ি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন আলু ব্যবসায়ী ও প্রগতিশীল চাষিরা। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাজ্যের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর ভিনরাজ্যে আলু পাঠানো বা আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। রাজ্যের সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত না করে, বৃহত্তর কৃষকদের লাভের স্বার্থে অন্য রাজ্যে আলু রপ্তানি করা হলে রাজ্য প্রশাসন তাতে কোনো বাধা দেবে না।
নেপথ্যের সংকট ও সরকারের পদক্ষেপের গুরুত্ব
চলতি বছর রাজ্যে আলুর বাম্পার ফলন হলেও খোলা বাজারে ব্যাপক দরপতন ঘটে। ফলস্বরূপ, ৫০ কেজির এক বস্তা আলুর দাম নেমে দাঁড়ায় মাত্র ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। অথচ কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এবছর বিঘা প্রতি আলু চাষ করতে কৃষকদের গড়ে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো ফসলের এই বিপুল লোকসান ও ঋণের দায়ে বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর সহ একাধিক জেলায় চাষিদের আত্মঘাতী হওয়ার মতো মর্মান্তিক খবরও সামনে আসছিল।
এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ৯৫০ টাকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ কৃষকদের লোকসানের হাত থেকে অনেকটাই বাঁচাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কৃষিকাজ এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ