Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ: মিলবে কবে? এখন যে জরুরি কাজটি করতে হবে জেনে নিন

শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ: মিলবে কবে? এখন যে জরুরি কাজটি করতে হবে জেনে নিন

WB DA Arrears, Teachers DA Payment, Non-teaching staff DA, West Bengal Dearness Allowance, Education Department Matching Order, DA Arrears PF Account, সংবাদ একলব্য
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর ম্যাচিং অর্ডারের অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদন, সংবাদ একলব্য: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানোর বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু রাজ্যের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীদের মনে একটাই প্রশ্ন— তাঁদের বকেয়া ডিএ-র কী হবে? কবে মিলবে সেই টাকা? এই জল্পনা ও উৎকণ্ঠার মাঝেই শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য উঠে এল এক অত্যন্ত জরুরি আপডেট।

'ম্যাচিং অর্ডার'-এর অপেক্ষা মাত্র!

প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, অর্থ দপ্তর রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য রোপা (ROPA) বা ডিএ-র মূল বিজ্ঞপ্তি আগে প্রকাশ করে। এরপর শিক্ষা দপ্তর বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি তাদের নিজস্ব কর্মীদের জন্য 'ম্যাচিং অর্ডার' (Matching Order) বা সমতুল্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সাধারণ বিজ্ঞপ্তির থেকে এক-দু'দিন সময় বেশি লাগে। তাই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হতাশ বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। রাজ্য সরকারি কর্মীদের মতোই তাঁরাও এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ পাবেন।

কোন সময়ের টাকা আগে মিলবে?

বিজ্ঞপ্তির বয়ান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে অনলাইনে স্যালারি সিস্টেম (OSMS/HRMS) চালু হওয়ায়, এই সময়কাল থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র হিসাব করা অপেক্ষাকৃত সহজ। তাই প্রথম ধাপে এই চার বছরের বকেয়া মেটানোর দিকেই জোর দিচ্ছে দপ্তর। অন্যদিকে, এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত হিসাব-নিকাশের জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের এখন কী করণীয়?

সামনেই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচন। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যেই ভোটকর্মীদের কাছে ট্রেনিংয়ের চিঠি চলে আসবে এবং সকলেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় চরম ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা দপ্তর যদি আচমকা স্কুলগুলির কাছে বকেয়া ডিএ-র হিসাব চেয়ে বসে, তবে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।

যদিও ওএসএমএস (OSMS) পোর্টালে সমস্ত তথ্য মজুত রয়েছে, তবুও সতর্কতা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত নিজের বেসিক পে (Basic Pay)-র সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে রাখুন। এই সময়ের মধ্যে জুলাই মাসের রেগুলার ইনক্রিমেন্ট ছাড়াও যদি কারও ১০, ২০ বা ১৮ বছরের বেনিফিট (10/20/18 Years Benefit) যোগ হয়ে বেসিক পরিবর্তন হয়ে থাকে, তবে সেই পরিবর্তিত বেসিক এবং তারিখটিও নির্ভুলভাবে লিখে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

কীভাবে মিলবে এই টাকা?

রাজ্য সরকারি কর্মীদের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং গ্রুপ-সি (Group-C) বা ক্লার্কদের বকেয়া ডিএ-র টাকা সরাসরি তাঁদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে (PF) জমা পড়ার সম্ভাবনাই প্রবল। সেক্ষেত্রে দু'বছরের 'লক-ইন পিরিয়ড' (Lock-in Period) থাকতে পারে। তবে গ্রুপ-ডি (Group-D) কর্মীদের বকেয়া টাকা সরাসরি স্যালারি অ্যাকাউন্টে এবং পেনশনারদের টাকা তাঁদের পেনশন অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে।

মার্চ না এপ্রিল? ট্যাক্সের গেরোয় স্বস্তি!

অনেকের মনেই প্রশ্ন, মার্চ মাসে টাকা না ঢুকলে কি ক্ষতি? বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্চ মাসের বদলে যদি এপ্রিল মাসে (নতুন অর্থবর্ষে) বকেয়া টাকা ঢোকে, তবে তা বহু কর্মীর জন্যই আশীর্বাদ হতে পারে। কারণ, অর্থবর্ষের একেবারে শেষলগ্নে একলপ্তে বড় অঙ্কের এরিয়ার অ্যাকাউন্টে ঢুকলে অনেকেরই আয়কর ছাড়ের সীমা (Tax Slab) অতিক্রম করে যেতে পারে, যার ফলে অপ্রত্যাশিতভাবে বিশাল অঙ্কের ইনকাম ট্যাক্স (Income Tax) গুনতে হতে পারে।

সুতরাং, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনেই দিন কয়েকের এদিক-ওদিক হতে পারে, তবে প্রত্যেকের হকের বকেয়া ডিএ যে নিশ্চিতভাবেই মিলতে চলেছে, তা একপ্রকার স্পষ্ট। এখন শুধু শিক্ষা দপ্তরের ম্যাচিং অর্ডারের অপেক্ষা। তার আগে নিজেদের হিসাবটুকু তৈরি রাখুন।

শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ এবং শিক্ষা দপ্তরের ম্যাচিং অর্ডারের ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in

সংবাদ একলব্য লোগো

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code