বকেয়া ডিএ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! কিন্তু ‘বিজ্ঞপ্তি কই?’ প্রশ্ন বিরোধীদের, কটাক্ষ কর্মী সংগঠনগুলির
নিজস্ব সংবাদদাতা, সংবাদ একলব্য: নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক ঘণ্টাখানেক আগে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মেটানোর কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি রাজ্যের পুরোহিত এবং মোয়াজ্জিনদের ভাতাও একধাক্কায় ৫০০ টাকা বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। তবে ভোটের ঠিক মুখেই এই ঘোষণাকে ‘নির্বাচনী চমক’ বলে কটাক্ষ করেছে বিরোধী শিবির। প্রশ্ন উঠেছে, ঘোষণা তো হল, কিন্তু সরকারি বিজ্ঞপ্তি কোথায়?
কী ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর?
শনিবার আচমকাই নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং পঞ্চায়েত, পুরসভা বা বোর্ড-কর্পোরেশনের কর্মীরা ২০০৯ সালের রোপা (ROPA) আইনের আওতায় বকেয়া ডিএ-র এরিয়ার মার্চ মাস থেকেই পেতে শুরু করবেন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতো প্রথম দফার মহার্ঘ ভাতা ৩১ মার্চের মধ্যেই মেটানোর কথা। কিন্তু তার পরেও কবে এই টাকা মিলবে, তা নিয়ে নবান্নের অন্দরে ধোঁয়াশা ছিল। এমনকি, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি মডিফিকেশন পিটিশন দাখিল করে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ও চেয়েছিল। পাল্টা আদালত অবমাননার নোটিস পাঠায় কর্মচারী সংগঠনগুলিও। এই দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের ঘোষণায় সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু বিতর্ক থামেনি।
‘ভোটের চমক’, সরব বিরোধীরা
বিরোধীদের দাবি, ভোটের মুখে প্রবল চাপে পড়েই ভাতার পাশাপাশি ডিএ দিতে বাধ্য হয়েছে রাজ্যের শাসকদল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে লিখেছেন, "বছরের পর বছর রাজ্যের কোষাগার লুট হয়েছে। বঞ্চিত থেকেছেন কর্মচারীরা। এটা শেষ মুহূর্তের ভোট-চমক ছাড়া কিছু নয়।"
পুরোহিত ও মোয়াজ্জিনদের ভাতা ২,০০০ টাকা করার প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, "৫০০ বা হাজার টাকা বাড়ানো নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু রাজ্যের সবাই বুঝতে পারছেন, এটা ভোটের আগে তাঁদের কিনে নেওয়ার চেষ্টা মাত্র।"
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর সোজা প্রশ্ন, "বিজ্ঞপ্তি কোথায়? আসলে ‘দেব-দেব’ ভাব করে মানুষকে প্রলুব্ধ করতে চাইছেন উনি।" কংগ্রেস নেতা সুমন রায়চৌধুরীও দাবি করেছেন, নির্বাচন ঘোষণার ঠিক ৫৫ মিনিট আগে ভোট-বৈতরণী পার হতেই মুখ্যমন্ত্রীর মহার্ঘ ভাতা ও অন্যান্য ভাতার কথা মনে পড়েছে।
পাল্টা জবাব তৃণমূলের
বিরোধীদের এই আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, "বিরোধীদের তো খুশি হওয়া উচিত। এত দিন সরকারের কাছে ওঁরা এটাই তো দাবি করছিলেন। তা হলে এখন ওঁদের গা জ্বালা করছে কেন?"
কী বলছে কর্মচারী সংগঠনগুলি?
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই ঘোষণায় খুশি হলেও, রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে নারাজ মামলাকারী সংগঠনগুলি। ২০১৬ সাল থেকে ট্রাইব্যুনাল থেকে হাইকোর্ট পেরিয়ে সুপ্রিম কোর্ট— দীর্ঘ ১০ বছরের লড়াই শেষে এই প্রাপ্তি। অনেকেই ভুলতে পারছেন না ২০১৬ সালে মুখ্যমন্ত্রীর সেই বহুচর্চিত ‘ঘেউ ঘেউ’ মন্তব্য।
মামলাকারী সংগঠন ‘কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’-এর সভাপতি শ্যামলকুমার মিত্র এবং সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের সাফ কথা, "সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করতে যে রাজ্য সরকার বাধ্য হবে, সে বিষয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ ছিল না। তাই রাজ্য সরকার বা মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে পারলাম না।"
‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, "নিজেদের অধিকার পাওয়ার জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের ঝান্ডা না ধরেও যে পশ্চিমবঙ্গে জয়লাভ করা যায়, এটাই তার প্রমাণ।" তবে অনেকেই বলছেন, "যতক্ষণ না হাতে টাকা আসছে, বিশ্বাস নেই।"
ভোটের আগে নতুন এবং পুরনো প্রকল্প মিলিয়ে রাজ্য সরকারের এই একের পর এক ঘোষণায় সাধারণ মানুষের একাংশ খুশি হলেও, রাজ্যের কোষাগারে এর জেরে ঠিক কতটা চাপ বাড়বে, তা নিয়েই এখন চিন্তিত ওয়াকিবহাল মহল।
রাজ্য রাজনীতি এবং ডিএ (DA) আন্দোলনের সমস্ত ব্রেকিং খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ