Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

বকেয়া ডিএ কি শুধু ৩.১৭ লক্ষ কর্মীর? সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের পেশ করা পরিসংখ্যানে বাদ পড়ার আশঙ্কায় শিক্ষকরা!

ডিএ মামলা: সুপ্রিম কোর্টের কমিটিতে পেশ করা রাজ্যের পরিসংখ্যানে বাদ বৃহত্তর অংশ? ৩.১৭ লক্ষ কর্মীর হিসেবে ঘনাচ্ছে বঞ্চনার আশঙ্কা

West Bengal DA Case Supreme Court Update 2026, State Government Employees Arrears, Teachers DA Issue, বকেয়া ডিএ মামলা, সংবাদ একলব্য

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) বা ডিএ মামলায় এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল এবং এর রূপরেখা তৈরির জন্য প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেই কমিটির কাছে রাজ্য সরকারের পেশ করা তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিভিন্ন মহলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে যে, সুকৌশলে বৃহত্তর সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা থেকে বঞ্চিত করার পথে হাঁটতে পারে রাজ্য প্রশাসন।

কমিটির বৈঠকে রাজ্যের পেশ করা পরিসংখ্যান কী বলছে?

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গিয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার কমিটির প্রথম ভার্চুয়াল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজ্যকে কর্মচারীদের বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারের তরফে যে ২০০ পাতার বেশি মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন এবং রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্ট ও কমিটির কাছে পেশ করা হয়েছে, তাতে সরাসরি রাজ্য সরকারের এ, বি, সি এবং ডি ক্যাটাগরি মিলিয়ে মাত্র ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৫৪ জন (3,17,954) বর্তমান কর্মচারীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বা পেনশনার এবং ফ্যামিলি পেনশনারদের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।

কোথায় ঘনাচ্ছে বিতর্ক? 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' নীতির অভিযোগ

এই ৩ লক্ষ ১৭ হাজারের পরিসংখ্যান সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা। কারণ, রাজ্যে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ও ভাতা প্রাপ্ত কর্মচারীদের মোট সংখ্যা এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। বৃহত্তর অংশের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত এবং পৌরসভা স্তরের কর্মীরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি পঞ্চম বেতন কমিশনের এই বকেয়া ডিএ শুধুমাত্র খোদ রাজ্য সরকারের সরাসরি কর্মচারীরাই (Rule making serving employees) পেতে চলেছেন? রাজ্য সরকার কি সুকৌশলে এই বৃহত্তর অংশটিকে বকেয়া পাওনা থেকে বাদ দিতে চাইছে?

কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে এই ভয়টাই এখন বাস্তবায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠছে, সরকার 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' বা বিভাজন নীতি অবলম্বন করে একটি অংশকে বঞ্চিত করতে চাইছে।

সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন

সুপ্রিম কোর্ট এর আগে ৩১ মার্চ, ২০২৬-এর মধ্যে প্রথম কিস্তির বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার তাদের মডিফিকেশন আবেদনে এই বকেয়া প্রদানের সময়সীমা বৃদ্ধি করে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত করার আর্জি জানিয়েছে।

উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে এখন একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মতো আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির এত দীর্ঘ দিনের প্রবল প্রচেষ্টা কি তবে বৃহত্তর অংশের জন্য ব্যর্থ হতে চলেছে? মামলাকারী সংগঠনগুলি কি এই পরিসংখ্যানের বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকলেও কোনো কারণে চুপ ছিল? রাজ্য সরকার যদি সত্যি সত্যিই বৃহত্তর কর্মচারীদের সাথে এমন বঞ্চনা করে, তবে আগামী দিনে এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকরা।

ডিএ মামলার প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন: sangbadekalavya.in

সংবাদ একলব্য লোগো

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code