Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

'যুদ্ধ ঘোষণা' এবং 'যুদ্ধ করা' এক জিনিস নয়! মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে বড়সড় সাংবিধানিক বিতর্ক

'যুদ্ধ ঘোষণা' এবং 'যুদ্ধ করা' এক জিনিস নয়! মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে বড়সড় সাংবিধানিক বিতর্ক

US President War Powers vs Congress, John Yoo Analysis, American Politics, সংবাদ একলব্য

নিজস্ব প্রতিবেদন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা এবং কংগ্রেসের অনুমোদন সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিতর্ক ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজের (Fox News) একটি অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে-র আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রাক্তন মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (DOJ) আধিকারিক জন ইউ (John Yoo) মার্কিন সংবিধানের তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা তুলে ধরেন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ আনেন।

লিবিয়া অভিযান ও রাজনৈতিক দ্বিচারিতার অভিযোগ

আলোচনার শুরুতেই ২০১১ সালে লিবিয়ায় ওবামা প্রশাসনের সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সেসময় ডেমোক্র্যাট নেত্রী ন্যান্সি পেলোসি এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে জানিয়েছিলেন, এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই, কারণ এটি একটি 'সীমিত অভিযান' (Limited operation)। যদিও পরিসংখ্যান বলছে, ওই অভিযান টানা ৭ মাস ধরে চলেছিল, যেখানে ৮,০০০ সেনা, ২১টি ন্যাটো জাহাজ এবং প্রায় ২৬,০০০ স্ট্রাইক সর্টি যুক্ত ছিল, যার পরিণতিতে গাদ্দাফি সরকারের পতন ঘটে। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে একটি পুরোনো ভিডিও ক্লিপ দেখানো হয়, যেখানে ডেমোক্র্যাট সেনেটর অ্যাডাম শিফ রাষ্ট্রপতির সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার একটি আইনি যৌক্তিকতাকে 'সম্পূর্ণ অস্পষ্ট' (Totally vague) বলে কটাক্ষ করেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো, সঞ্চালক তাঁকে সঙ্গে সঙ্গেই মনে করিয়ে দেন যে, ওই বিবৃতিটি আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়, বরং লিবিয়া অভিযান নিয়ে বারাক ওবামার প্রশাসনের দেওয়া বিবৃতি ছিল!

সংবিধান নিয়ে রাজনীতি করছেন বিরোধীরা: জন ইউ

এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক জন ইউ অভিযোগ করেন যে, রাজনীতিকরা সংবিধানকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করছেন। তাঁর দাবি, যখন কোনও রিপাবলিকান রাষ্ট্রপতি ক্ষমতায় থাকেন, কেবল তখনই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মনে হয় যে সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু ওবামা বা বর্তমান বাইডেন প্রশাসনের মতো ডেমোক্র্যাট রাষ্ট্রপতিরা যখন একই ধরনের পদক্ষেপ নেন (যেমন ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলা), তখন তাঁরা কোনও প্রশ্ন তোলেন না বা সন্দেহ প্রকাশ করেন না।

জন ইউ আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, কংগ্রেস যদি সত্যিই কোনও যুদ্ধ বা সামরিক পদক্ষেপ থামাতে চায়, তবে তাদের হাতে 'তহবিল নিয়ন্ত্রণ' (Funding power)-এর মতো চরম ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু তারা সেই ক্ষমতা প্রয়োগ না করে কেবল রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করে।

সংবিধানে 'Declare War' বনাম 'Make War'

মার্কিন সংবিধানের আর্টিকেল ২ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হলেন সশস্ত্র বাহিনীর 'কমান্ডার-ইন-চিফ' বা সর্বাধিনায়ক। অন্যদিকে, আর্টিকেল ১, সেকশন ৮ অনুযায়ী কংগ্রেসের হাতে 'যুদ্ধ ঘোষণা' (Declare War) করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সঞ্চালক কেইলি ম্যাকেনানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরে জানান, সংবিধান রচনার সময় প্রাথমিক খসড়ায় 'Make War' (যুদ্ধ করা) শব্দটি ছিল, যা পরিবর্তন করে পরে 'Declare War' রাখা হয়।

এই তথ্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে জন ইউ ব্যাখ্যা করেন যে, অষ্টাদশ শতাব্দীতে 'যুদ্ধ ঘোষণা' করার অর্থ ছিল আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বিপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো যে দুই দেশ যুদ্ধে লিপ্ত। এর অর্থ এই নয় যে, সামরিক পদক্ষেপ বা 'যুদ্ধ করার' (Make War) জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতিটি পদক্ষেপে কংগ্রেসের আগাম অনুমোদনের প্রয়োজন। সংবিধান প্রণেতারা ভেবেচিন্তেই এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করেছিলেন, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দেশ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন: sangbadekalavya.in

সংবাদ একলব্য লোগো

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code