তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র গিরিশ পার্ক: মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা, রক্তাক্ত দুই থানার ওসি
কলকাতা, ১৪ মার্চ ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশের ঠিক আগেই তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক চত্বর। এই ঘটনায় রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বউবাজার এবং বড়তলা থানার ওসি গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার দুপুরে স্থানীয় এলাকায় লাগানো 'বিজেপি বয়কট' এবং 'গো ব্যাক নরেন্দ্র মোদী' ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা বড়সড় সংঘর্ষের আকার ধারণ করে। প্রকাশ্য রাজপথে শুরু হয় ব্যাপক ইটবৃষ্টি এবং গাড়ি ভাঙচুর।
তৃণমূল ও শশী পাঁজার অভিযোগ
রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার অভিযোগ, ব্রিগেডগামী বাসে থাকা বিজেপি কর্মীরাই এই হামলার মূল চক্রী।
- পোস্টার ছেঁড়া: তাঁর দাবি, বিজেপি কর্মীরা বাস থেকে নেমে প্রথমে বাড়ির আশেপাশের 'বয়কট বিজেপি' ফ্লেক্স ছিঁড়ে দেয়। তৃণমূল কর্মীরা নতুন করে ফ্লেক্স লাগাতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয়।
- বাড়িতে হামলা: শশী পাঁজার অভিযোগ, তাঁর গিরিশ পার্ক মেন রোডের বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় এবং জানালার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। হামলায় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
- আহত কর্মী: তৃণমূলের দাবি, এই ঘটনায় তাদের প্রায় ৫০ জনের বেশি কর্মী আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মন্ত্রী এই ঘটনাকে "গণতন্ত্রের খুন" বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বিজেপির পাল্টা অভিযোগ
গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে তৃণমূলের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করা হয়েছে।
- বাসে হামলা: বিজেপির অভিযোগ, তাদের কর্মী-সমর্থকরা যখন বাসে করে ব্রিগেডের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তৃণমূল কর্মীরা বিনা প্ররোচনায় তাদের বাস আটকে ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করে।
- আহত বিজেপি কর্মী: ইটের ঘায়ে বিজেপির বেশ কয়েকজন কর্মীর মাথা ফেটে যায়। দলের উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তমঘ্ন ঘোষ সহ প্রায় ৩০-৪০ জন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের ছোড়া ইটের ঘায়ে মাথা ফাটে বউবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্করের। পাশাপাশি বড়তলা থানার ওসিও রক্তাক্ত হন। বর্তমানে গোটা গিরিশ পার্ক এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং কড়া পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাজ্য রাজনীতির সমস্ত ব্রেকিং খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ