কাবুল, সংবাদ একলব্য: চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া এবং ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত গোটা আফগানিস্তান। গত ২৪ ঘণ্টায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং হড়পা বানের (Flash Flood) জেরে দেশটিতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার আফগান কর্তৃপক্ষের তরফে এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া দফতর আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায়, আগামী দিনে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান
ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (National Disaster Management Authority) মুখপাত্র ইউসুফ হাম্মাদ জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ১৩টি প্রদেশ, বিশেষ করে পশ্চিম, মধ্য এবং উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলগুলো এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- ঘরবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: প্রবল বৃষ্টির জেরে অন্তত ১৪৭টি বাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৮০ কিলোমিটার রাস্তা জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ায় বা ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন।
- কৃষি ও অর্থনীতি: এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কৃষিজমি, সেচ ব্যবস্থা এবং অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫৩০টি পরিবার চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছে।
মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন যে, উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও দুর্গত এলাকাগুলোতে সমীক্ষা চালাচ্ছে, তাই আগামীতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সতর্কবার্তা ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার পূর্ব ও মধ্য আফগানিস্তানে আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইউসুফ হাম্মাদ স্থানীয় বাসিন্দাদের নদীর তীর এবং বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন বারবার আফগানিস্তানে এমন বিপর্যয়?
আফগানিস্তানের এই ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা নতুন কিছু নয়। এর আগেও দেশটিতে ভারী তুষারপাত ও হড়পা বানে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালের বসন্তকালেই দেশটিতে বন্যায় ৩০০-র বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, দুর্বল পরিকাঠামো, চরম অর্থনৈতিক সংকট, নির্বিচারে গাছ কাটা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) কারণেই আফগানিস্তান প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কাছে এতখানি অসহায়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার বাড়িগুলো মূলত মাটি দিয়ে তৈরি হওয়ায়, হঠাৎ আসা বন্যা বা তুষারপাতে সেগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।
আন্তর্জাতিক দুনিয়ার প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং ব্রেকিং খবরের সমস্ত আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ