ওয়াশিংটন, সংবাদ একলব্য: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতিবাদে শনিবার (২৮ মার্চ, ২০২৬) দেশজুড়ে পথে নামলেন লাখ লাখ সাধারণ মানুষ। 'নো কিংস' (No Kings) বা 'কোনো রাজা নয়' ব্যানারে আয়োজিত এই বিশাল প্রতিবাদ আন্দোলন আমেরিকার এক উপকূল থেকে অন্য উপকূল পর্যন্ত প্রায় সমস্ত অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, এবং সম্প্রতি ইরানের সাথে আমেরিকার সংঘাত সহ ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক নীতির বিরোধিতাতেই এই স্বতঃস্ফূর্ত গণবিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
কেন এই 'নো কিংস' আন্দোলন?
আন্দোলনকারী এবং আয়োজকদের মূল অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থের বদলে নিজেদের একনায়কতান্ত্রিক ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কোটিপতি বন্ধুদের সুবিধা পাইয়ে দিতেই ব্যস্ত।
- খরচ বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি: সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ, সরকারের ভুল অর্থনৈতিক নীতি এবং বিদেশের মাটিতে (বিশেষ করে ইরানে) বিপুল অর্থ খরচ করে যুদ্ধ চালানোর কারণে দেশে জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। এর ফলে দৈনন্দিন জীবনে চরম আর্থিক দুর্দশার মুখে পড়ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা।
- গণতান্ত্রিক অধিকার খর্বের অভিযোগ: 'নো কিংস' বা 'কোনো রাজা নয়' স্লোগানটির মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা মূলত এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট কোনো রাজা বা স্বৈরাচারী শাসক নন যে তিনি নিজের খেয়ালখুশিমতো দেশ চালাবেন। অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টার বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন সাধারণ মানুষ।
আন্দোলনের ব্যাপকতা
আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শনিবার দেশের ৫০টি অঙ্গরাজ্য মিলিয়ে প্রায় ৩,২০০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।
- মূল কেন্দ্র মিনেসোটা: এবারের এই 'নো কিংস' আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু বা 'ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্ট' ছিল মিনেসোটা রাজ্যের সেন্ট পল এলাকা। সেখানে ক্যাপিটল ভবনের সামনে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হন। বিখ্যাত মার্কিন গায়ক ব্রুস স্প্রিংস্টিন (Bruce Springsteen) সেখানে উপস্থিত হয়ে গান গেয়ে আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানান।
- সারা দেশে বিক্ষোভ: নিউ ইয়র্ক থেকে শুরু করে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, ওয়াশিংটন ডিসি এবং ডালাসের মতো বড় শহরগুলোতেও বিশাল মিছিল বের হয়। বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প বিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড এবং ব্যানার হাতে স্লোগান দেন। অনেকেই উল্টো করে মার্কিন পতাকা ধরে নিজেদের প্রতিবাদ ও দেশের বর্তমান 'সংকটময়' অবস্থাকে তুলে ধরেন।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এত বড় গণবিক্ষোভের পর হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে এই আন্দোলনকে বামপন্থী সংগঠনগুলোর দ্বারা অর্থায়িত 'সাজানো বিক্ষোভ' বলে কটাক্ষ করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে এর সাথে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ডালাস সহ বেশ কিছু জায়গায় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের খণ্ডযুদ্ধের খবর পাওয়া গিয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
আমেরিকার সাধারণ নাগরিকদের এই বিপুল জনরোষ আগামী দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে, সেটাই এখন দেখার।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং বিশ্বজুড়ে ঘটে চলা সমস্ত ব্রেকিং খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ