গ্যাস সংকট মোকাবিলায় কড়া মমতা: তৈরি হচ্ছে এসওপি, কালোবাজারি রুখতে প্রয়োজনে গ্যাস বাজেয়াপ্ত করবে রাজ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশজুড়ে চলা তীব্র এলপিজি (LPG) গ্যাস সংকটের জেরে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। এই পরিস্থিতিতে বুধবার নবান্ন সভাঘর বা ‘সৌজন্য’তে বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং তিনটি প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবার নির্দিষ্ট এসওপি (SOP) তৈরি করবে রাজ্য সরকার।
মজুতদারি রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সংকটের মুহূর্তে কোনোভাবেই হোর্ডিং, অবৈধ মজুত বা কালোবাজারি বরদাস্ত করা হবে না। কেউ যদি অতিরিক্ত দাম নেয় বা গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, তবে রাজ্য সরকার সেই মজুতদারদের থেকে জ্বালানি গ্যাস বাজেয়াপ্ত করবে। এই বিষয়ে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অগ্রাধিকারের তালিকায় মিড-ডে মিল ও হাসপাতাল
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, হাসপাতাল, সাধারণ গৃহস্থালি, স্কুলগুলোতে মিড-ডে মিল প্রকল্প, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, সংশোধনাগার এবং সরকারি হস্টেলগুলোতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। এছাড়াও রেস্তোরাঁ, হকার এবং হোম ডেলিভারি পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদের সমস্যার কথাও গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়েছে।
সার্ভার বিভ্রাট ও গ্রিন চ্যানেল
অনেক গ্রাহকই অভিযোগ করছেন যে সার্ভার বন্ধ থাকার কারণে তাঁরা গ্যাস বুক করতে পারছেন না। মুখ্যমন্ত্রী তেল সংস্থাগুলিকে দ্রুত সার্ভার সচল করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, গ্যাস সরবরাহ নিয়মিত রাখতে প্রয়োজনে ‘গ্রিন চ্যানেল’ তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে রাজ্য সরকার। যাতে পরিবহন ব্যবস্থা আরও দ্রুত হয়।
অটোচালক ও গ্রামীণ মানুষের জন্য ভাবনা
সিএনজি (CNG) চালিত অটোচালকদের সুবিধার্থে দ্রুত স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলের মানুষের জন্য কেরোসিন তেলের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেন্দ্রকে আক্রমণ ও দেশবাসীকে আশ্বাস
কেন্দ্রীয় সরকারের গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাস বুকিং-এর সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করার সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ বলে আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলেই রাজ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, "গ্যাস সাপ্লাই রাজ্যের হাতে নেই, এটা কেন্দ্রের বিষয়। তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের স্বার্থে আমরা নিয়মিত মনিটর করব। বাংলার মানুষ অযথা আতঙ্কিত হবেন না, রাজ্য সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে।"
রাজ্যের রাজনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in