নয়াদিল্লি, সংবাদ একলব্য: পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা সংঘাত এক মাস পেরোতে চলল। আর এই যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ছে ভারতের হেঁশেলে। দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেল এবং এলপিজি (LPG) গ্যাসের চরম সংকট। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিটি রাজ্যের তৈলভাণ্ডার এবং গ্যাস মজুতের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখতে এবার সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বৈঠকের সময়সূচি ও রাজ্যের ভূমিকা
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO) থেকে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে যে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কারণে বাংলা-সহ ভোটমুখী ৫টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না। তাঁদের পরিবর্তে এই রাজ্যগুলির মুখ্যসচিবরা প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দেবেন বলে খবর।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের সূত্র অনুযায়ী, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠক বয়কট করতে পারেন। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংকট নিয়ে কোনো রুদ্ধদ্বার বৈঠক নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দিতে হবে।
গ্যাস সংকটের বাস্তব চিত্র ও জনদুর্ভোগ
যুদ্ধের কারণে ব্যাহত হওয়া সাপ্লাই চেইনের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে, গত ৩ মার্চ বুক করা এইচপি গ্যাসের (HP Gas) সিলিন্ডার মাসের শেষে এসেও গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। দিনের পর দিন অপেক্ষার পর বাধ্য হয়ে অনেকেই গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর বা কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করছেন।
সিলিন্ডারের এই হাহাকারের প্রভাব পড়েছে রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও। আরামবাগের মতো জায়গায় গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে দুস্থদের জন্য চালানো 'মা ক্যান্টিন'। পাশাপাশি, সিলিন্ডারের কালোবাজারি রুখতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। খোদ কলকাতার লালবাজারে পুলিশের বারাকে গ্যাসের বদলে এখন ইন্ডাকশন ওভেনে রান্নার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে হাই অ্যালার্ট
গ্যাস সংকটের জেরে গ্রামাঞ্চলে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উত্তরবঙ্গের জঙ্গলগুলোতে কাঠ পাচারকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বনদপ্তর। এই পাচার রুখতে ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের জঙ্গলগুলিতে 'হাই অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে এবং বনকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেই যেন সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তার করা হয়।
সব মিলিয়ে, বিশ্বমঞ্চের এই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ভারতের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। শুক্রবারের এই বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি কোনো বিকল্প সমাধানের পথ দেখাতে পারেন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।
গ্যাস সংকট, জাতীয় রাজনীতি এবং উত্তরবঙ্গের সমস্ত ব্রেকিং খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in