দিনহাটায় ৫ শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে DYFI, কাঠগড়ায় বিদ্যুৎ দপ্তরও
সমীর হোসেন, দিনহাটা: দিনহাটার হিমঘর সংলগ্ন কোয়ালিদহ এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫ নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার অভিযোগ তুলল ডিওয়াইএফআই (DYFI)। সোমবার সকালে ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের একটি প্রতিনিধি দল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ, প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেয়।
অরক্ষিত দুর্ঘটনাস্থল, প্রমাণ লোপাটের আশঙ্কা
সোমবার সকালে ডিওয়াইএফআই-এর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শুভ্রালোক দাসের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি পাথর কাটার ওই কারখানাটিতে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে তারা দেখেন, যে স্থানে ৫ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, সেটি পুলিশের তরফ থেকে কোনোভাবেই ঘিরে (Cordon) রাখা হয়নি। দুর্ঘটনাস্থলে তখনও পড়ে রয়েছে শ্রমিকদের রক্তমাখা গামছা এবং পুড়ে যাওয়া জুতো। ডিওয়াইএফআই নেতৃত্বের অভিযোগ, পুলিশের এই চরম উদাসীনতার কারণে যে কোনো মুহূর্তে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ লোপাট হয়ে যেতে পারে।
অনুমোদন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ
১১ হাজার এবং ৩৩ হাজার ভোল্টের হাইটেনশন লাইনের ঠিক নিচে কীভাবে একটি কারখানা বা কনস্ট্রাকশন সাইট তৈরির অনুমতি দেওয়া হলো, তা নিয়েও এদিন বড়সড় প্রশ্ন তোলে যুব সংগঠনটি। শুভ্রালোক দাস অভিযোগ করেন যে, এটি মূলত একটি কৃষিজমি বা দোলা জমি ছিল। টাকার বিনিময়ে বা কাটমানি খেয়ে পঞ্চায়েত এই বিপজ্জনক স্থানে কারখানা তৈরির ছাড়পত্র দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একইসঙ্গে, ভূমি সংস্কার দপ্তর কীভাবে এই জমির চরিত্র বদল করল এবং শ্রম দপ্তর কেন শ্রমিকদের ন্যূনতম নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করল না, তা নিয়েও জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিককে ঘিরে বিক্ষোভ
এদিন সকালে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ দপ্তরের দিনহাটা স্টেশন ম্যানেজার পরিদর্শনে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশাসনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ দপ্তরের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতাকে দায়ী করে ওই আধিকারিককে ঘিরে ধরে প্রবল ক্ষোভ উগরে দেন উপস্থিত ডিওয়াইএফআই নেতৃত্ব। হাইটেনশন তার সরানোর কোনো ব্যবস্থা না করেই কীভাবে এই জায়গাতে কাজের ছাড়পত্র মিলল, তা নিয়েও বিদ্যুৎ দপ্তরের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে।
ডিওয়াইএফআই-এর পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। মালিকপক্ষ এবং যারা এই বেআইনি নির্মাণকাজের ছাড়পত্র দিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে বাম যুব সংগঠনটি।
সাংবাদিক - সমীর হোসেন
বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সমীর হোসেন ২০২১ সালে 'সংবাদ একলব্য'-এর মাধ্যমে সিটিজেন জার্নালিস্ট হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে পা রাখেন। বর্তমানে তিনি এই পোর্টালের একজন নির্ভরযোগ্য সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত। কোচবিহার জেলার শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি থেকে শুরু করে রাজনীতির ময়দান— সব ধরনের খবর অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতার সাথে পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর প্রধান কাজ।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ