SIR-এর নামে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিলের প্রতিবাদ! দিনহাটায় অনুষ্ঠিত বিশাল নাগরিক কনভেনশন
দিনহাটা, ১৫ মার্চ: এসআইআর (Special Intensive Revision বা SIR)-এর নামে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি এবং ভোটার তালিকা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাম বাতিলের প্রতিবাদে রবিবার দিনহাটায় এক বিশাল নাগরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হল। ‘ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চ, দিনহাটা’-এর উদ্যোগে শহরের মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ স্মৃতি সদনে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক কনভেনশনে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করা হয়। একইসঙ্গে, ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইকে আরও জোরদার করতে এদিন একটি ২৪ সদস্যের নতুন কার্যকরী কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
আতঙ্কের পরিসংখ্যান ও কনভেনশনের অভিযোগ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এসআইআর (SIR) তালিকা অনুযায়ী, রাজ্য জুড়ে প্রায় ১ কোটি ২৪ লক্ষ ভোটারের নাম হয় বাতিল করা হয়েছে, নতুবা ‘বিচারাধীন’ (Under Adjudication) অবস্থায় রাখা হয়েছে। কনভেনশনে পেশ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র কোচবিহার জেলাতেই ২ লক্ষ ৩৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছে এবং ৮ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।
বক্তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া আসলে যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠী— বিশেষ করে মুসলিম, রাজবংশী, মতুয়া ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘বেনাগরিক’ করার এক সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। বৈধ আধার কার্ড, ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও এমন কিছু নথি চাওয়া হচ্ছে যা গরিব মানুষের পক্ষে জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব।
ঠুনকো অজুহাত ও আইনি লঙ্ঘন
কনভেনশনে অভিযোগ করা হয় যে, রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫০–এর ধারা ২২ লঙ্ঘন করে যথাযথ নোটিশ বা শুনানির সুযোগ না দিয়েই বহু বৈধ ভোটারকে সন্দেহের তালিকায় ফেলা হয়েছে। শুধুমাত্র নামের বানানগত সামান্য ভুল (যেমন- ব্যানার্জী/বন্দ্যোপাধ্যায়, মহম্মদ/MD, মিয়া/মিঞা) বা 'Logical Discrepancy'-র অজুহাতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ডিজিটালাইজেশনের ভুলের দায় নাগরিকদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। এই আতঙ্কে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অকাল মৃত্যু ও আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
নাগরিকত্ব প্রমাণের অধিকার কমিশনের নেই
সংবিধানের ৩২৪ থেকে ৩২৯ অনুচ্ছেদ এবং ১৯৯৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের ‘লালবাবু হোসেন’ মামলার রায়কে উদ্ধৃত করে কনভেনশনে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, নাগরিকত্ব নির্ধারণ করার কোনো আইনি বা সাংবিধানিক অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। এটি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাজ। তা সত্ত্বেও কমিশন বেআইনিভাবে এই কাজ করছে বলে দাবি করা হয়।
কনভেনশন থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলি:
- কোনো অবস্থাতেই কোনো বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া চলবে না।
- যান্ত্রিক পদ্ধতি বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (AI) পরিবর্তে সরেজমিন তদন্ত ও মানবিক বিচারকে গুরুত্ব দিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন করতে হবে।
- ভোট ঘোষণার আগেই সমস্ত ‘বিচারাধীন’ ভোটারকে পূর্ণ ভোটাধিকার নিশ্চিত করে মূল ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
- নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে চলমান SIR প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে।
গঠিত হল নতুন কমিটি
সার্বজনীন ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার এই লড়াইকে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর ও আপসহীন গণআন্দোলনে রূপ দিতে কনভেনশন থেকে একটি ২৪ সদস্যের কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক অসিতকুমার চক্রবর্তী, সম্পাদক হয়েছেন আজিজুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন নূরমোহাম্মদ মিঞা।
দিনহাটা ও উত্তরবঙ্গের সমস্ত খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ