জোড়াসাঁকোয় সুরের মূর্ছনা: সুরভারতী সঙ্গীত পরিষদের ৫৪তম সমাবর্তন ও সাংস্কৃতিক মহাযজ্ঞ
সুরশ্রী ব্যানার্জী, কলকাতা: বাঙালির সংস্কৃতি চর্চার পীঠস্থান জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির রথীন্দ্র মঞ্চ রবিবার সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। সুর, তাল ও লয়ের জাদুতে মুখরিত এই প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হলো সুরভারতী সঙ্গীত পরিষদের ৫৪তম সমাবর্তন উৎসব। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ পাঁচ দশকের পথচলা এদিন পূর্ণতা পেল নবীন ও প্রবীণ শিল্পীদের এক উজ্জ্বল মিলনমেলায়।
১৯৭২ সালের ২৬শে জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসের পবিত্র দিনে বিশিষ্ট সংস্কৃতিসাধক উমাশঙ্কর পাঁজা-র হাত ধরে সুরভারতী সঙ্গীত পরিষদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সোসাইটি অ্যাক্টের অধীনে নিবন্ধিত এই সংস্থাটি গত ৫৪ বছর ধরে নিরলসভাবে সঙ্গীত ও চারুকলার প্রচারে কাজ করে যাচ্ছে। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পূর্ণ সম্মতিতে পরিচালিত এই পরিষদ আজ বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে সারা ভারত, এমনকি বিদেশের মাটিতেও তার শিকড় বিস্তার করেছে।
বর্তমানে প্রায় ১২০০-র বেশি সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এই পরিষদের অনুমোদনে পরিচালিত হচ্ছে। সঙ্গীত, নৃত্য, বাদ্যযন্ত্র এবং চিত্রকলা—চারু ও কারুকলার প্রতিটি বিভাগে নির্দিষ্ট পাঠক্রম মেনে শিক্ষা ও পরীক্ষার ব্যবস্থা করে থাকে এই সংস্থা। শুধু পরীক্ষাই নয়, নিয়মিত পুস্তক ও পত্রিকা প্রকাশনা এবং নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক সম্মেলনের আয়োজন করে তারা সংস্কৃতি চর্চার ধারাকে বহমান রেখেছে।
এবারের ৫৪তম সমাবর্তন ছিল জাঁকজমকপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে আগত কৃতি ছাত্রছাত্রীরা এদিন মঞ্চে উপস্থিত হয়ে তাঁদের মেধা ও সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ডিপ্লোমা, ডিগ্রি ও বিশেষ উপাধি গ্রহণ করেন। এই স্বীকৃতি তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল গড়ে তুলতে আরও অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানের গরিমা বৃদ্ধি করেছিলেন বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ। মঞ্চ উজ্জ্বল করে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত ওড়িশি নৃত্যশিল্পী ও গুরু অলকা কানুনগো, যাঁর উপস্থিতি সমাবর্তন অনুষ্ঠানকে এক অন্য মাত্রা দেয়। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট আইনজীবী, গবেষক ও লেখক শ্রী জয়দীপ ঘোষ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী শ্রী সুশান্ত চক্রবর্তী এবং স্বনামধন্য কবি ও গীতিকার শ্রী রতন দাস সহ সমাজের বিশিষ্ট গুণীজনেরা।
জোড়াসাঁকোর রথীন্দ্র মঞ্চে অনুষ্ঠিত এই সমাবর্তন শুধুমাত্র সনদ বিতরণের অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল গুরু-শিষ্য পরম্পরা এবং শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার এক উদযাপন। সুরভারতী সঙ্গীত পরিষদের এই উদ্যোগ আগামী দিনেও ভারতীয় ধ্রুপদী কলা ও সংস্কৃতির প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা রাখা যায়।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ