জঙ্গি নিশানায় ‘চিকেনস নেক’-এর একাধিক সেতু! মহানন্দায় বিএসএফ-এর যুদ্ধকালীন মহড়া, সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা
বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে নতুন সরকার। কিন্তু পড়শি দেশের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনেও ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিন্দুমাত্র ঢিলেমি দিতে নারাজ নয়াদিল্লি। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে (সেভেন সিস্টার্স) মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখা ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডর নিয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা এখন তুঙ্গে। জঙ্গিদের হিটলিস্টে থাকতে পারে এই করিডরের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলি—এই আশঙ্কায় বুধবার মহানন্দা সেতুর নিচে বিএসএফ-এর বিশেষ মহড়া বা মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হলো।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ী প্রধান মহম্মদ ইউনূস তাঁর শেষ ভাষণে ‘সেভেন সিস্টার্স’-এর প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “আমাদের খোলা সমুদ্র কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা নয়—এটি বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার খোলা দরজা। নেপাল, ভুটান এবং সেভেন সিস্টার্সকে নিয়ে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।” যদিও এটি অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বলা, তবুও ভারতের কাছে এই কৌশলগত অবস্থানের নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বুধবার সকালে শিলিগুড়ি শহরের ‘লাইফ লাইন’ বলে পরিচিত মহানন্দা সেতুতে বিএসএফ-এর জওয়ানরা প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে এক বিশেষ মহড়া চালান। পরিস্থিতি ছিল রীতিমতো যুদ্ধকালীন। এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর জলপাইগুড়ির তিস্তা সেতুতেও অনুরূপ মহড়া চালানো হয়েছিল। সেভেন সিস্টার্সকে বিচ্ছিন্ন করতে জঙ্গিরা যাতে কোনোভাবেই সেতুগুলিতে নাশকতা চালাতে না পারে, তার প্রস্তুতি হিসেবেই এই মহড়া।
তারেক রহমানের সরকার গঠিত হলেও ভারতের উদ্বেগের মূল কারণ হলো সীমান্তবর্তী রংপুরে কট্টরপন্থী শক্তির উত্থান। ভারতের ‘চিকেনস নেক’-এর খুব কাছেই অবস্থিত বাংলাদেশের রংপুর বিভাগ। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে এই বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ১৩টিতেই জয়ী হয়েছে জামাত-ই-ইসলামি ও তাদের জোটসঙ্গীরা।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জামাতের সঙ্গে যুক্ত কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন সমাবেশে শিলিগুড়ি করিডরকে ভারতের ‘দুর্বলতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছে। তাদের দাবি, আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লে এই করিডরে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব। স্পর্শকাতর এই সীমান্তে জামাতের এই শক্তিশালী উপস্থিতি ভারতের ঘুম উড়িয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ১৯৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখনও কাঁটাতারের বেড়াবিহীন। নদীর পাড়ে কিছু অংশে বেড়া থাকলেও তা নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। এই অরক্ষিত পথ ব্যবহার করে যাতে কোনো জঙ্গি অনুপ্রবেশ বা নাশকতার ছক বাস্তবায়িত না হয়, সেদিকেই এখন পাখির চোখ বিএসএফ-এর। নতুন করে টহলদারি এবং নজরদারি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে এই করিডর জুড়ে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊