Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

কোচবিহারে মহাসমারোহে পালিত রাজবংশী সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক ক্ষত্রিয় উপনয়ন ও মহামিলন উৎসব

কোচবিহারে মহাসমারোহে পালিত রাজবংশী সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক ক্ষত্রিয় উপনয়ন ও মহামিলন উৎসব

রাজবংশী, ক্ষত্রিয় উপনয়ন, মহামিলন উৎসব, ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা, কোচবিহার, দিনহাটা, ২৭শে মাঘ, রাজবংশী সংস্কৃতি, Rajbanshi Community, Kshatriya Upanayan, Panchanan Barma, Cooch Behar News, North Bengal Culture.

নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার: উত্তরবঙ্গের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির অন্যতম ধারক রাজবংশী সম্প্রদায় (Rajbanshi Community)। মঙ্গলবার কোচবিহার জেলা জুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভক্তির সাথে পালিত হলো এই সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘ক্ষত্রিয় উপনয়ন (Kshatriya Upanayan) ও মহামিলন উৎসব’। দিনহাটার বুড়িরহাট-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।


এদিন দুপুরে বুড়িরহাট পঞ্চানন পিঠে ভারতের জাতীয় পতাকা ও ক্ষত্রিয় সমাজের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। এরপর রাজবংশী সমাজের প্রাণপুরুষ, সমাজ সংস্কারক ও মনীষী রায়সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল রাজবংশী যুবকদের ‘ক্ষত্রিয়করণ’ প্রক্রিয়া। প্রথা মেনে যুবকরা মস্তক মুণ্ডন করেন এবং বৈদিক রীতিনীতি মেনে পৈতা ধারণের মাধ্যমে ক্ষত্রিয় হিসেবে দীক্ষিত হন।


এই উৎসবের পেছনে রয়েছে এক গভীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯১৩ সালের ২৭শে মাঘ মনীষী পঞ্চানন বর্মা জলপাইগুড়ি জেলার দেবীনগরের কাছে পেরোলবাড়িতে করতোয়া নদীর তীরে এক বিশাল ধর্মীয় ও সামাজিক সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন। সেই সমাবেশে হাজার হাজার রাজবংশী মানুষ নিজেদের গৌরব ও ক্ষত্রিয় পরিচয়ের দাবিতে সমবেত হয়েছিলেন। ঐতিহাসিক সেই দিনটিই রাজবংশী সমাজের নবজাগরণ ও সমাজ সংস্কারের মাইলফলক হিসেবে পরিচিত। সেই সমাবেশে পঞ্চানন বর্মা ‘ক্ষত্রিয় সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


সেই ১৯১৩ সালের ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণ করেই প্রতি বছর ২৭শে মাঘ উত্তরবঙ্গ, উত্তর-পূর্ব ভারত, এমনকি প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও নেপালেও রাজবংশী সম্প্রদায় এই দিনটি পালন করে আসছে। এটি বর্তমানে কেবল একটি ধর্মীয় আচারে সীমাবদ্ধ নেই, বরং রাজবংশী জনগোষ্ঠীর ঐক্য, আত্মপরিচয় এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার রক্ষার এক জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।


বুড়িরহাটের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বুড়িরহাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আলিমা খাতুন বিবি, বিশিষ্ট সমাজসেবী আব্দুল সাত্তার, যাজ্ঞ বলকো সিংহ, খগেশ্বর বর্মন-সহ এলাকার অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই উৎসবে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়।

সংবাদ একলব্য লোগো

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code