আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৮০! তীব্র নিন্দা জানাল ভারত
সংবাদ একলব্য, ডিজিটাল ডেস্ক: পাক-আফগান সীমান্তে চরম উত্তেজনা। আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান। এই হামলায় অন্তত ৮০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, সাম্প্রতিককালে দেশে ঘটে যাওয়া একাধিক আত্মঘাতী বোমা হামলার বদলা নিতেই আফগানিস্তানে লুকিয়ে থাকা জঙ্গি ঘাঁটিগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে প্রতিবেশী দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত।
আফগানিস্তানের নানগারহার, পাকতিকা এবং খোস্ত প্রদেশের অন্তত সাতটি স্থানে এই প্রত্যাঘাতমূলক বিমান হামলা চালানো হয়। পাকতিকার বারমাল এলাকা এবং নানগারহারের খোগিয়ানি, ঘানি খেল ও বেহসুদ এলাকা ছিল এই হামলার মূল কেন্দ্র। পাকিস্তান সরকারের দাবি, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলির আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই অপারেশনের মূল লক্ষ্য।
পাকিস্তানের অভিযোগ ও দাবি:
ইসলামাবাদ, বাজাউর এবং বান্নুতে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলাগুলির জন্য আফগানিস্তানের মাটিতে বসে থাকা জঙ্গিদেরই দায়ী করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী দাবি করেছেন, এই সফল অভিযানে প্রায় ৭০ জন জঙ্গি খতম হয়েছে। পাক তথ্য মন্ত্রণালয় এই হামলাকে "সুনির্দিষ্ট এবং প্রতিশোধমূলক" বলে আখ্যা দিয়েছে। তালাল চৌধুরীর অভিযোগ, ২০২০ সালের দোহা চুক্তিতে আফগান তালেবানরা কথা দিয়েছিল যে তাদের মাটি কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তারা রাখেনি। তিনি আরও জানান, নাগরিকদের সুরক্ষায় পাকিস্তান দেশের অভ্যন্তরেও ৭০ হাজারেরও বেশি গোয়েন্দা-ভিত্তিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়েছে।
আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া ও সীমান্ত পরিস্থিতি:
কাবুল প্রশাসন অবশ্য প্রথম থেকেই পাকিস্তানের এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। আফগান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম ব্যর্থ, আর সেই দায় তারা কাবুলের ওপর চাপাতে চাইছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানদের প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের অক্টোবরেও সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়, যাতে উভয় পক্ষেরই হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। রবিবারের এই হামলার পর সীমান্ত অঞ্চলে পরিস্থিতি কার্যত বারুদস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। চলছে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ।
ভারতের তীব্র নিন্দা:
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের এই আগ্রাসী বিমান হামলার কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই হামলায় নারী ও শিশু সহ সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং গভীর উদ্বেগজনক। পবিত্র রমজান মাসে এই ধরনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ভারত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এটি নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যর্থতা থেকে নজর ঘুরিয়ে বহিরাগত বিষয়ে পরিণত করার জন্য পাকিস্তানের একটি মরিয়া প্রচেষ্টা মাত্র। নয়াদিল্লি আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং এই অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে।
সাংবাদিকের নাম-সম্রাট দাস
মূলত ২০০৯ সাল থেকেই বিভিন্ন সংবাদ পত্রে লেখালেখি শুরু। উত্তরের সারাদিন পত্রিকায় শিক্ষাবিভাগে নিয়মিত লিখতেন। ২০১৭ সালে সংবাদ একলব্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। বর্তমানে সংবাদ একলব্যে অবৈতনিক সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊