'ভাতা নয়, স্থায়ী চাকরি চাই', কর্মসংস্থান ও পৃথক রাজ্যের দাবিতে জলপাইগুড়িতে প্রাক্তন কেএলও লিঙ্কম্যানদের বিক্ষোভ
অমিত বনিক, সংবাদ একলব্য: রাজ্য সরকারের দেওয়া বিভিন্ন ভাতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং পুনর্বাসনের দাবিতে পথে নামল প্রাক্তন কেএলও লিঙ্কম্যান সংগঠন। সোমবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার প্রাক্তন কেএলও এবং লিঙ্কম্যানরা একত্রিত হয়ে জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ ও ধর্না কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
এদিন বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে মূলত তিনটি দাবি জ্বলজ্বল করছিল— এক্স কেএলও ও লিঙ্কম্যানদের কর্মসংস্থান, সঠিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা এবং 'মার্টিয়ার' বা শহীদদের যথাযথ সম্মান প্রদান। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের কামতাপুর রাজ্যের দাবিতেও সোচ্চার হতে দেখা যায়।
ধর্না মঞ্চ থেকে রাজ্য সরকারের 'যুব সাথী' ভাতার তীব্র সমালোচনা করেন নেতৃত্বরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বেকার যুবকদের জন্য চালু করা এই ভাতা প্রকৃত কর্মসংস্থানের বদলে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের নেশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে "মদ কেনার টাকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার" বলে তীব্র কটাক্ষ করেন তারা। তাদের মতে, উত্তরবঙ্গে প্রায় পাঁচ হাজার বেকার যুবক রয়েছেন, যাদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের কোনো সুব্যবস্থা নেই।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী এক মহিলা প্রতিনিধি রাজ্য সরকারের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, "সামান্য ১৫০০ টাকা দিয়ে মানুষের সংসার চলে না। আমাদের ছেলেদের চাকরি দিন, ভাই-ভাতিজাদের চাকরি দিন, নাহলে আমাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চাই না"। তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার মাত্র ৪০০ জনকে চাকরি দিয়ে কামতাপুরী জনজাতির লাখ লাখ বেকার যুবকের সমস্যা সমাধানের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কর্মসংস্থানের অভাবে এলাকার যুবকরা কেরালা সহ অন্যান্য ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা, যতদিন না তাদের আলাদা রাজ্যের দাবি পূরণ হচ্ছে এবং যুবকদের জন্য শিল্প ও স্থায়ী কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, ততদিন এই আন্দোলন চলবে। শুধু ভাতা দিয়ে উত্তরবঙ্গের বেকারত্ব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানই একমাত্র পথ বলে দাবি প্রাক্তন কেএলও লিঙ্কম্যানদের।
অমিত বনিক
জন্মসূত্রে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা অমিত বনিক স্নাতক সম্পন্ন করার পর ২০১৫ সাল থেকে পেশাদার সাংবাদিকতার জগতে পা রাখেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি 'সংবাদ একলব্য'-এর সাথে যুক্ত রয়েছেন। জলপাইগুড়ি শহর এবং এর আশেপাশের এলাকার তৃণমূল স্তরের খবর থেকে শুরু করে সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতার সাথে তুলে ধরাই তাঁর প্রধান কাজ।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊