Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

সুপ্রিম নির্দেশে পিছু হটল কমিশন! পিছোল বাংলার ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ, জানুন নতুন সূচি

সুপ্রিম নির্দেশে পিছু হটল কমিশন! পিছোল বাংলার ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ, জানুন নতুন সূচি

West Bengal Voter List 2026, Election Commission of India, Mamata Banerjee Supreme Court, SSR West Bengal, Voter List Scrutiny Date Extended, Justice Surya Kant, Final Voter List West Bengal Date, নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকা পশ্চিমবঙ্গ, সুপ্রিম কোর্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে চাপে পড়ে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল সামারি রিভিশন’ (SSR)-এর সময়সীমা বাড়াল ভারতের নির্বাচন কমিশন। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও, তা পিছিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে। এই মর্মে কমিশনের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও জারি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি পদক্ষেপ এবং শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপের ফলেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

নির্বাচন কমিশনের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ ও তার সময়সীমা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। কমিশনের পরিবর্তিত সূচি নিম্নরূপ:

  • দাবি ও আপত্তি জানানোর (Hearing) শেষ তারিখ: ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
  • নথি যাচাই বা স্ক্রুটিনি (Scrutiny): আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
  • বুথ পুনর্বিন্যাস (Booth Rationalization): ২৫ ফেব্রুয়ারি।
  • চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি।

কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে কমিশনের অতি-তৎপরতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের অভিযোগ ছিল, এত দ্রুত কাজ শেষ করতে গিয়ে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং শুনানির কাজ অনেক জায়গায় অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। তাছাড়া, কমিশনের নিযুক্ত ‘মাইক্রো অবজার্ভার’-দের অতি-সক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে রাজ্য।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সেখানে রাজ্যের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন যে, স্ক্রুটিনির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে না। সওয়াল-জবাব শেষে শীর্ষ আদালত কমিশনের কাজে রাশ টানে। আদালত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেয় যে: ১. ভোটার তালিকা সংশোধনের স্ক্রুটিনির জন্য অতিরিক্ত ৭ দিন সময় দিতে হবে। ২. ভোটারদের নাম সংযোজন বা বিয়োজনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শুধুমাত্র ‘ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার’ (ERO) এবং ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকট্রোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার’ (AERO)। ৩. মাইক্রো অবজার্ভাররা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন না, তাঁদের কাজ শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ করা।

কমিশনের পূর্বঘোষিত ১৪ ফেব্রুয়ারির সময়সীমা নিয়ে গোড়া থেকেই রাজ্যের শাসকদল ও বিরোধীদের মধ্যে চর্চা চলছিল। বিরোধীদের একাংশের প্রশ্ন ছিল, এত কম সময়ে নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করা কতটা সম্ভব? অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের অভিযোগ ছিল, কমিশনের এই তাড়াহুড়ো আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মুখ্যমন্ত্রীর সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, আদালতের এই নির্দেশে তা কার্যত প্রমাণিত হলো বলে মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।

আপাতত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকলের নজর থাকবে চূড়ান্ত তালিকার দিকে। অতিরিক্ত সময়ে স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া কতটা নিখুঁত হয় এবং শেষ পর্যন্ত কত সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ বা যুক্ত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদ একলব্য লোগো

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code