ইডির সঙ্গে সম্মুখসমরে মমতা!
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির সঙ্গে সম্মুখ সমরে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার আই-প্যাকের অফিস ও আই-প্যাকের কর্ণধর প্রতীকের বাড়ি এবং তাঁর আইপ্যাক দফতরে পৃথক ভাবে হানা দেয় ইডি। আর এই ইডি হানাকে কেন্দ্র করে সরাসরি লড়াইয়ে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিট থেকে বিকেল ৪টে ২৩ মিনিট পর্যন্ত দফায় দফায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির সঙ্গে সম্মুখসমরে অবতীর্ণ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে হানা দেয় ইডি। কখনও নথিপত্র বার করে আনলেন, কখনও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও ইডিকে তুলোধনা করলেন। যার জল গড়াল হাই কোর্ট পর্যন্ত।
বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলার সূত্রে আই-প্যাকে এদিন অভিযান চালায় ইডি এমনটাই দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। ইডির তল্লাশি চলাকালীনই কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা যান প্রতীকের বাড়ি। তার কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সবুজ রঙের ফাইল এবং ল্যাপটপ নিয়ে কিছু সময়েই বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে তিনি সটান যান সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে। সেখানে তখনও তল্লাশি চলছিল। তার মধ্যেই মমতা যান। এক নিরাপত্তরক্ষী একাধিক ফাইল এবং নথিপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসেন। তিনি সেগুলি মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে তুলে দেন। তার পরেও বিকেল পর্যন্ত মমতা সেখানেই ছিলেন। পরে আইপ্যাক দফতর থেকে বেরিয়ে মমতা যান আউট্রাম ঘাটে। সেখানে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী গঙ্গাসাগর মেলার উদ্বোধন করেন। ইডির অভিযানকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন মমতা। পাশাপাশি তাঁর দলের ‘নির্বাচনী কৌশল’ অন্যায় ভাবে হাতিয়ে নেওয়ারং দাবি করেন তিনি।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘সক্রিয়তার’ বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইডি। কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ইডি। মমতার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক পদের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে ইডি। নির্বাচন বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। কয়লা পাচার মামলার সূত্রে এই হানা বলেও দাবি করা হয়। শুধু কলকাতা নয় দিল্লী সহ ১০টি জায়গায় এই অভিযান চলছে বলেও দাবি করা হয়। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা।
আইপ্যাক দফতরে ইডির অভিযান নিয়ে পাল্টা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করেছে তৃণমূল। সেই মামলাটিও শুক্রবার বিচারপতি ঘোষের এজলাসে উঠতে পারে। পাশাপাশি ইডির এই অভিযানের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই পথে নেমেছে রাজ্য শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিকেল ৪টে থেকে প্রত্যেক ওয়ার্ডে প্রতিবাদী মিছিলের নির্দেশ দিয়েছিল তৃণমূল। সেই অনুযায়ী, দিকে দিকে তৃণমূল নেতাদের বিক্ষোভ মিছিলে দেখা যায়। শুক্রবারও পথে নামার ঘোষনা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার পথে নামবেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত আই-প্যাকের অফিসে ইডি হানার প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মিছিল করবে তৃণমুল।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, ‘‘ভোটের কাজ চলছে। ওরা স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করেছে। সব তথ্য ট্রান্সফার করেছে। দফতর থেকে সব কাগজ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। সব টেবিল ফাঁকা। সেই নথি আবার তৈরি করার প্রয়োজন পড়লে অনেক সময় লাগত। তত দিনে ভোট পেরিয়ে যেত। এই কাজ কি ঠিক হল? আমি মনে করি এটা অপরাধ।’’ বিজেপিকে নিশানা করে এর পর তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত দেখিনি।’’ ইডির উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘আমরা নথিভুক্ত রাজনৈতিক দল। আমরা কর দিই। অডিট হয়। প্রয়োজন থাকলে ইডি আয়কর দফতর থেকে কাগজ নিতে পারত। বিজেপি সবচেয়ে বড় অপরাধী। চোরেদের দল। ওরা বিজেপি-কে নোটিস পাঠায় না। ভোট এলে আয়কর দফতর আমাদের নোটিস পাঠায়। আমাদের সঙ্গে চিটিং করলে, জুয়া খেললে মেনে নেব না। আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে হানা দেওয়াই? সেটা ঠিক হবে?’’ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও আক্রমণ করেন মমতা। ইডি তাঁর মন্ত্রকের অধীনেই রয়েছে। মমতা বলেন, ‘‘কৌশল লুট করছে। ডেটা, ভোটার, বাংলা লুট করছে। ভাষা লুট করে। শূন্যতে আসবে (বিজেপি)। প্রধানমন্ত্রী, আপনার উচিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করা। ওরা আমাদের অর্থনৈতিক কাগজ, হার্ডডিস্ক, কৌশল চুরি করেছে।আমি সৌজন্য দেখাই। সহ্য করি। এটা দুর্বলতা নয়। সব লুট করলে, ছিনতাই করলে হজম করব না।’’

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊